নারায়ণগঞ্জের ফুটপাত দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে উচ্ছেদ অভিযানে সিটি কর্পোরেশন ও প্রশাসনের ‘দ্বিমুখী নীতি’ বন্ধ ও পরিকল্পিত সমাধান চাই।


Zihad Hossain প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২২, ২০২৬, ২:৫৭ অপরাহ্ন / ১০০০
নারায়ণগঞ্জের ফুটপাত দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে উচ্ছেদ অভিযানে সিটি কর্পোরেশন ও প্রশাসনের ‘দ্বিমুখী নীতি’ বন্ধ ও পরিকল্পিত সমাধান চাই।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক), প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে গত ১৩ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযানকে আমরা স্বাগত জানাই। নগরবাসীর হাঁটার অধিকার ফিরিয়ে আনা একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কিন্তু বর্তমান অভিযানের ধরণ দেখে মনে হচ্ছে, এখানে ‘দুর্বলের ওপর কঠোর আর সবলের ওপর নমনীয়’ নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে—যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

গত ১ সপ্তাহের উচ্ছেদ অভিযানের অভিজ্ঞতায় কিছু পয়েন্ট নোট করলাম-
১. ‘বড়লোক’ দখলদারদের রাজত্ব ও প্রশাসনের নীরবতা:-
ফুটপাত থেকে সাধারণ ও নিরীহ হকারদের উচ্ছেদ করা গেলেও প্রভাবশালী স্থায়ী দোকানদারদের ক্ষেত্রে প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব।শহরের প্রধান সড়কগুলোর ফুটপাত ও রাস্তার বড় অংশ স্থায়ীভাবে দখল করে রেখেছে নামী-দামী রেস্টুরেন্ট, বেকারী ও শোরুমগুলো।

২ নং রেলগেটের মনির হোটেল, বিবি রোডের হোয়াইট হাউজ রেস্টুরেন্ট, সুগন্ধা প্লাস, আলম কেবিন এবং চাষাড়ার সুমাইয়া বিরিয়ানি হাউসের রান্নার সরঞ্জাম ও জ্বলন্ত চুলা ফুটপাতে বসিয়ে পথচারীদের ভোগান্তি  বাড়ানো হচ্ছে।

নবাব সিরাজুদ্দৌলা সড়কের ১ নং রেল গেট থেকে কালীরবাজার ১৬ তলা বিল্ডিং পর্যন্ত সড়কের দুই পাশেই অবৈধভাবে শত শত দোকান ও স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এখানে সিটি কর্পোরেশনের নজরদারি নেই বললেই চলে।

​নবাব সলিমুল্লাহ রোডের ফার্নিচার দোকান, নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের পাশের মার্কেট এবং ডিআইটি মসজিদের সামনের ইলেকট্রনিক্স দোকানগুলো তাদের বিশাল মালামাল ফুটপাতে সাজিয়ে রেখে স্থায়ী দখলদারিত্ব কায়েম করেছে।

​প্রশ্ন: সাধারণ হকারদের বেলায় আইন যতটা কঠোর, এই প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নাসিক ও প্রশাসন কেন ততটাই নমনীয়?

পার্কিং অব্যবস্থাপনা ও কৃত্রিম যানজট:-
শহরের বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকা বর্তমান যানজটের অন্যতম কারণ।
বঙ্গবন্ধু সড়কের (বিবি রোড) পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনের ফুটপাত ও অর্ধেক রাস্তা দখল করে সবসময় বাইক ও প্রাইভেট কার পার্কিং করা থাকে।
এই অব্যবস্থাপনার কারণে মূল শহরে সার্বক্ষণিক যানজট লেগে থাকে, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তিকে চরম সীমায় নিয়ে গেছে।

৩. ‘ইঁদুর-বেড়াল’ খেলা ও পুনর্বাসনের সংকট:-
​সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া হকার উচ্ছেদ করায় শহরজুড়ে এক ধরণের নিরর্থক ‘ইঁদুর-বেড়াল’ খেলা চলছে। দিনের বেলা উচ্ছেদ হলে রাতে আবারো তারা জায়গা দখল করছে।
পরিকল্পনাহীনতা: হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ পূনর্বাসন না করায় এই উচ্ছেদ অভিযান দীর্ঘমেয়াদী কোনো সমাধান দিচ্ছে না।

​মানবিক বিবেচনা: হকারদের রুটি-রুজির বিষয়টি মাথায় রেখে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত পুনর্বাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান:
​১. বৈষম্যহীন উচ্ছেদ: উচ্ছেদ অভিযানে কোনো বাছবিচার করা চলবে না। সাধারণ হকারদের পাশাপাশি ফুটপাত দখলকারী বড় বড় রেস্টুরেন্ট, বেকারী ও শোরুমের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং বড় অংকের জরিমানা নিশ্চিত করতে হবে।
২. পার্কিং আইন প্রয়োগ: যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পার্কিং নেই, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। রাস্তায় অবৈধ পার্কিং বন্ধে ট্রাফিক পুলিশকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে হবে।
৩. নজরদারি বৃদ্ধি: কালীরবাজার ও নবাব সিরাজুদ্দৌলা সড়কের মতো এলাকাগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে।

শাহিন মৃধা
সাংগঠনিক সম্পাদক
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন – নারায়ণগঞ্জ জেলা