
স্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার এনায়েতনগর ইউনিয়নের মুসলিমনগর নয়াবাজার এলাকায় স্থানীয় পঞ্চায়েত মাতবর আলী সর্দার এবং এনায়েতনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বিল্লাল হোসেনকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, তাদের কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আলী সর্দার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেন। বিচার-সালিশের নামে বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে প্রভাব খাটিয়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়া, নিরপেক্ষতার পরিবর্তে পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত দেওয়া এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, অতীতে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একজন ব্যক্তি কীভাবে বিএনপির সদস্য হিসেবে পরিচিতি পেলেন।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, এনায়েতনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বিল্লাল হোসেনকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন আলী সর্দার। তাদের দাবি, একাধিক মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও বিল্লাল এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন এবং এ ক্ষেত্রে আলী সর্দারের প্রভাব কাজ করছে। পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপিকে কোণঠাসা করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনারও অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-সংক্রান্ত হত্যা মামলাসহ প্রায় ৯টি মামলায় বিল্লাল হোসেন এজাহারভুক্ত আসামি। তাদের অভিযোগ, এসব মামলার পরও তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এছাড়াও এলাকাবাসীর অভিযোগ, পঞ্চায়েত কমিটির পদ ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, বিচার-সালিশে অনিয়ম এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া হচ্ছে। এসব ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য
এ বিষয়ে আলী সর্দারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তিনি বিএনপির একজন কর্মী এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। পঞ্চায়েত মাতবর হওয়ার কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে ছবি থাকতেই পারে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এদিকে বিল্লাল হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার ফলাফলই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
আপনার মতামত লিখুন :